গোলাম রববানীর দুটি কবিতা:
এক. বারবার ফিরে আসা
বিরুদ্ধ এ রীতিনীতি যেন রুদ্ধ জীবন প্রাণী
নীরব নীতির নীল বর্ষনে জাগলে না পাতলা পানি
কেবলই কি সুর এসে এই সুর ভেসে যায়
গ্যাঞ্জাম দেহাতে?
গাঢ় অসুখ হিজিবিজি জারজবংশ নীল পাতাতে।
গোপন গোপন কলরবে ক্ষত জিহবার উত্তেজনায়
ঈদ হেসে যায় ঈদ কেঁদে যায়
জল ও পানির উদোম চিল্লায়
মেঘমাল্য হায় ভীষণরকম কেঁদে কেঁদে চরাচর ভাসাই
মনকূল ভেসে ভেসে কিভাবে যে ডুবাই উড়াই
সময় জানে সময়ের এই সময় কত ধারে চলে
মেধা মগজ আর কূটচাল
ফালিফালি করে কাটে
ফুরিয়েছে কত রক্তের সেই জাদরেল তেজ
হায়রে হালচাল
পানি হয়ে গেছে সব দেহ, ঘামের সঙ্গে কেন বানচাল?
ঈদের খুশি কোথায় পাব, ঈদ মেখে সেই মরে যাব
ক্ষমতার হাত ক্ষমতার পাপ,
আর এতটা লম্বা হব!
রঙচটা বিবেকের এই অপচয়,
যুগ যুগ ধরে কেবল সঞ্চয়
জিম্মি শব্দটি নিজের কাছে অবশেষে হায় জিম্মি হয়
ঈদ আসে আপন রঙে জীবনদর্শন বালুচরে
ঈদ আনন্দ জিততে জিততে পরাজিত পাপাত্মাতে
আসলে কী পৃথিবীতে ঈদের কোনও আনন্দ নেই
সেই ছেলেবেলার সেই ঈদের সঙ্গে কোনও
তুলনা নাই।
শৈশব কৈশোর সেই ঈদ আমার যে একান্ত গৃহকাতর
কর্মব্যস্ত ফেলে দিই সব,
ফিরবো এখন এক ঈদকাতর।
(২)
আব্বা মায়ের কাছে ফিরছি ফিরে আসি এইতো ঈদ ঈদ
ছোটো মায়ের মায়াভরা মুখটি দেখবো এইতো ঈদ ঈদ
দুই:
কথারা শুনি কোথায় গেলে
পৃথিবীর মাথা যদি পনপন করে ঘুরে তাতে আমার কি?
কিছুটা তাপ উঠলে তাতে কী আর এমন ক্ষতি
বাতব্যথায় বালিশ সঙ্গিনীর রাত এপাশ-ওপাশ গেলে
দুর্দশা দিবসের দিনমান শেষ,ঘুম আকাঁ ছবির ক্যানভাস
কথার ভাটারা নামে তখন এই অস্থির পৃথিবীর মুখে
কথানদী আছে, যেন কথার কোনও যৌবন জোয়ার নেই
কথাদেহ আছে, গুড সেক্সচুয়ালের বোঝাপড়া নেই
পৃথিবীর বুক স্তনবোঁটাসম পাহাড় গিরিখাত বৃথা
কথারা তখন কথার ওপরে চরম সম্ভোগের চূড়ান্তে
পিনিস আর যোনিও তাই সংক্রমণের তীব্র হিংস্রপ্রবনে
আখ্যান অ্যাবরশনের প্লাবনে, বংশপরস্পরা রণে
যেন খোলামেলা কাপড়চোপড়ের স্বাধীনতার শরীর
চেতনা আমার চৌর্যবৃত্তি, অধীনতা পরাধীনতার চৌতারা
কেবলই লুটতরাজ চুরি ডাকাতি রাজপথে রাহাজানি
এত আলোর সকাল ক্লেপ্টোম্যানিয়া আর জোচ্চুরি
এত ঠক ফাঁসুড়ের মেলা, নকলকথা আজ নামিদামি ডামি
মাটির উৎকণ্ঠাতে মরে মাটি, যেন বাৎস্যায়নে নাচি
বাৎসরিক উৎসবের আয়-ব্যয়ে জনতা মাইগ্রেনে ভোগে
তবু কথারা শুনি কোথায় গেলে- রূপসী বাংলা লকলিপে
পুরোনো দিনের দেশাত্মবোধক গানগুলি আনমনে
কমেন্ট করুন