কবিতা: ভালোবাসার আতর- কান্নার হীরক ফোঁটায়
ভালোবাসার আতর- কান্নার হীরক ফোঁটায়
চাঁদ-জ্যোৎস্না ঘুমিয়ে ছিল, ঝুলে থাকা
মেঘের বারান্দায়। বর্ষ পুরাতন বৃক্ষের মগডালে
কৃষ্ণকায় কর্কশ চিৎকার
অশুভ সংকেত!
এসব চেনা ছবি কাক-জ্যোৎস্নার....
সোনাঝুড়ি নিম ডুমুর জল শ্যাওড়ার আবরণে
গোরস্থান! আলোহীন দেহের শেষ ঠিকানা!
চাঁদের নির্যাস অথবা অমানিশার আঁধার নিকানো মাটিতে,
গাছেদের শিকড় ছুঁয়ে কাঁচা পাকা বাঁশের কাঠামোয় সেসব ঘর।
আড়াই দিন, জীবন মরনের কুরুক্ষেত্রে তুমুল যুদ্ধ
তারপর? তারপর গরল বিষে পুড়ে যাওয়া--
হৃৎপিণ্ড থেমে যায় নিমেষে।
অকাতরতায় মায়াবাঁধন জীবনের সমাপ্তি।
আঠাশের তরতাজা যুবকের বুকে মাটি দিয়ে
ঘরে ফিরছে, আত্মার আত্মস্বজন পাড়া পড়শী।
রাত বাড়ছে, সিলিংঙে সদ্য বিধবা জলছাপে অনন্ত প্রেম প্রদর্শন ।
সমান্তরালের সন্ধিক্ষনে মসজিদের মুয়াজ্জিন
বাতাস ঢেউ তুলে-- শেষ ওয়াক্তের আহ্বান
আল্লা...হু..য়া..ক..বার.....
হয়তো এখনই, ইতিহাসের, রোজ-নামচায়
কবরবাসীর ঘুম ভাঙ্গিয়ে, হিসাব হবে।
জোলো মেঘ সরে যেতেই--
কোজাগরীর হৈমন্তী চাঁদের রূপালী কুসুম আলো
ভিজে কবরের কাঁচা মাটিতে আলতো আল্পনায়
যেন ঘুমপাড়ানি মায়ের হাতের কোমল পরশ।
সোনালী ধানের নবান্নে ভীষণ প্রেমিক
হতে চাওয়া একটা লাশের, শনশন হাওয়া
বয়ে নিয়ে যায় ভালোবাসার আতর কিম্বা
কান্নার হীরক ফোঁটায় জমাটবদ্ধ আর্তনাদ....
হয়তো নিয়তি। হয়তোবা, বেঁচে থাকতেও পারতো....!! কিন্তু....???
কমেন্ট করুন