দুটি কবিতা:
১।। দাম্পত্য।।
জীবনের তরে জীবন দেখেছি ঢের
এখন তোমার জন্য নিজেকে দেখতে চাই
এই যে সৌভাগ্যের রূপরেখা এঁকে দিয়ে গেছো
নিপুণ আল্পনার মতো ফুটে উঠেছে
দাম্পত্যের সংসারী জলছবি
আমি দুর থেকে শুনতে পাই কলহের কোলাহল
কাছে এলে দেখি থালা আলো করা ভাত
আর তোমার সজল নয়নে অপেক্ষার মায়ারঙ
আঁচলের বাতাসে মায়ের স্মৃতি
হাতের স্পর্শে বান্ধবীর প্রতিশ্রুতি
চুম্বনে প্রেমিকার বেনুনির মতো শৃঙ্খলা
আমার হারিয়ে যাওয়া জীবনের কলতান
কতো সহজেই যেন ফিরিয়ে দিলে
নূপুরের ঝঙ্কারে
অথচ বুকের কুটিরে আশ্রয়টুকু ছাড়া
নিজের জন্য চাইলে না কোনোকিছুই
২।। স্বাক্ষর।।
নিঃস্ব হয়ে আছি যন্ত্রচালিত জীবনের দাসখতে!
চতুর্দিকে দর্পনহীন আলো
প্রতিবিম্বের প্রতিরূপহীন কায়া,
নিজের মুখটি কোথাও পাইনা খুঁজে।
তৃষার্ত চাতকের ন্যায় জলের বক্ষতলে
হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরি সেই বিস্মৃত ছায়াজল।
মরীচিকাদের ছুঁয়ে, যার অবশেষ টুকু
শেষ হয়ে গেছে আগেই।
এখন জীবনের বালিয়াড়ি জুড়ে শুধু স্মৃতির মরুদ্যান,
দূর হতে আজও ভেসে আসে সেই চাতকের মায়াগান।
চতুর্দিকেই বহুমুখী স্রোতরঙ
অথচ বুকের ভিতর আয়নার বুকে পারদ নিবতে থাকে;
আমি নিজেই নিজের স্বরূপ গিয়েছি ভুলে।
সাধনতপে প্রাপ্ত সে পরিচয়—
হারিয়ে গিয়েছে কবেকার কোন অতীতের ধুলা ঝড়ে,
নিঃস্ব হয়েছে স্বাক্ষর আমার অক্ষরে অক্ষরে!
কমেন্ট করুন